মাছি টাইপের প্যারেন্টিং

প্যারেন্টিং এর বিভিন্ন ধরন অনুযায়ী মধ্যে প্রথম হচ্ছেন মাছি টাইপের প্যারেন্ট। হ্যাঁ, আপনি ঠিক শুনেছেন, মাছি টাইপের প্যারেন্ট। কেন এরকম বললাম। মাছির কাজ কি, সে কী করে? আপনি যদি একটা মাছি-কে লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন, মাছি সব সময় খারাপ জিনিষের উপর বসে, ময়লার উপর বসে এবং সে ময়লা-রোগ-জীবাণু ছড়ানোর কাজ করে । আরো একটা কাজ করে, সেটা হচ্ছে কানের কাছে ভ্যান ভ্যান করে। আমাদের মধ্যে কিছু প্যারেন্ট আছেন, যারা সারাদিন তাদের বাচ্চার কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করেন আর বাচ্চার খারাপ দিক গুলো বার বার বলতে থাকেন।

সন্তান অন্য যে কোন দিকে যতই ভাল হোক না কেন, বাচ্চা খেলাধূলায় খুব ভাল, সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে, খুব ভাল ছবি আঁকতে পারে –  সেগুলো তাদের চোখে পড়ে না, তাদের চোখে পড়ে তাদের হাতের লেখা কেন খারাপ, বাচ্চা কেন সব এলোমেলো করে রাখে, কেন বাচ্চা ঘর  গুছিয়ে রাখে না, বাচ্চা কেন দেয়ালে লিখে। এই একটা দু’টা যে গুলো তাদের চোখে পড়ে সেগুলো নিয়ে সারাক্ষণ কথা বলতে থাকেন, ঘ্যান ঘ্যান করতেই থাকেন, একদম মাছির মত ।

এ দোষগুলো শুধু যে বাচ্চাদেরকেই বলি তা না, সবাইকে বলে বেড়াই। আপনারা যদি লক্ষ্য করেন দেখবেন যে স্কুলের বাইরে যখন প্যারেন্টদের মিটিং হয়,  আলোচনার বিষয়বস্তুই হচ্ছে তাদের বাচ্চাদের দূর্ণাম। তারা সারাক্ষণ অন্য প্যারেন্টদের কাছে নিজের বাচ্চার বদনাম করতে থাকেন।  ইনারাই মূলতঃ মাছি টাইপের প্যারেন্ট।

এ থেকে আমাদের বাচ্চারা কী শিখে – শিখে যে সবসময় মানুষের খারাপ দিক নিয়ে কথা বলতে হয়। সমালোচনা করতে হয়। দোষগুলো প্রকাশ করতে হয়। এবং একসময় সে-ও সেটাই করতে থাকে। কী সাংঘাতিক! ঐ যে বলেছিলাম। বাচ্চারা চোখ দিয়ে শোনে। সে সেটাই করে যা সে আমাদের করতে দেখে। সেটা নয়, যেটা আমরা তাদেরকে করতে বলি। আপনি মাছি প্যারেন্ট নন তো?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *