ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করা

‘লেখাপড়া না করলে কিন্তু ফেইল করবে, ফেইল করলে আবারও আগের ক্লাসে পড়তে হবে’ অথবা ‘ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করো, নইলে কিন্তু দূর্বল হয়ে পড়বে’। এরকম কথা হরহামেশা আমরা আমাদের সন্তানদের বলি। আমরা মনে করি এতে সে ভয় পেয়ে কাজটি করবে।

হয়তো সে করবে কিন্তু তার মনোজগতে কী হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা খুব কমই খবর রাখি। আমরা যখন তাকে ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করি তখন প্রথমত তার মনে হীনমন্যতা তৈরী হয় যে সে আসলে খুব খারাপ ছাত্র বা কাজটি ঠিকমতো করতে পারে না। তার মধ্যে মানসিক অস্থিরতা তৈরী হয়, তার কনফিডেন্স কমে যায় এবং পরবর্তীতে তার মধ্যে অনেক ধরনের আচরণগত সমস্যা তৈরী হয়।

চলুন তাহলে আমর এ সমস্যাগুলি চিহ্নিত করি।

স্বল্প মেয়াদী ফলাফল : ভয় দেখিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া যায় এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এটির ইমপ্যাক্ট খুবই অল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে। সন্তান রেসপন্স তো করে কিন্তু মন থেকে নয়। তাই এতে আন্তরিকতা থাকে না। ফলাফলও তার দীর্ঘস্থায়ী হবার প্রশ্নই আসে না।

নেতিবাচক প্রভাব : এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরী করে যা আমাদের সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সময়ের সাথে সাথে এটি তার আত্মবিশ্বাস আত্মসম্মান ধ্বংস করে দিতে পারে।

সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয় : ভয় দেখিয়ে কাজ করালে সে শুধুমাত্র শাস্তি বা বিপদ থেকে বাঁচার জন্য নির্দিষ্ট কাজটি করে এবং এতে তার কোন রকম সৃষ্টিশীলতা থাকে না। সৃষ্টিশীলতা অন্যান্য সব গুণের মতো প্র্যাকটিস করতে হয়। এভাবে কাজ করালে সৃষ্টিশীলতার কোন প্র্যাকটিস হয় না। সে নতুন কোন জিনিস খুঁজে বের করতে চায় না। এতে তার কৌতুহল কমে যেতে থাকে। ‘যদি ভুল হয়ে যায়, তবে অসফল হতে হবে’ এই ভয় তাকে সারাজীবন তাড়িত করতে পারে

সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব : মা-বাবার সাথে সন্তানের ইতিবাচক সম্পর্কে প্যারেন্টিং এর সবচেয়ে বড় ‘এ্যাসেট’ বা পুঁজি। পুঁজি ছাড়া যেমন ব্যবসা হয় না তেমনি ইতিবাচর সম্পর্কে ছাড়া পজিটিভ প্যারেন্টিং হবে না। ভয় দেখিয়ে কাজ করালে এটি আপনার সন্তানের সাথে আপনাদের সম্পর্কে নষ্ট করতে ভূমিকা রাখে।

এটি দীর্ঘমেয়াদী নয় : একবার যখন আপনার সন্তান জেনে যাবে (এবং সে অবশ্যই জানবে) যে এই ভয়গুলো অমূলক ছিল। তখন সে আপনার কথার আর মূল্যায়ন করবে না।

এটি নৈতিক নয় : আপনাকে যদি কেউ ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করে তবে এটি কি আপনার জন্য ঠিক মনে করবেন? যদি এর উত্তর ‘না’ হয় তবে আপনারও নৈতিকভাবে সন্তানের সাথে এটি করা উচিৎ হবে না।

আপনি বলতে পারেন – এভাবে না করলে তো কাজ হয় না। অবশ্যই কাজ হয়, কিন্তু আমাদেরকে শেখানো হয়নি ঠিক কীভাবে বললে কাজ হয় – নেতিবাচকভাবে না করেই। আমরা সেগুলো নিয়ে অবশ্যই কথা বলবো অন্য কোন সময়। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *