মশা টাইপের প্যারেন্টিং

মাছি এবং মশার মধ্যে পার্থক্য কি? মশাও কিন্তু মাছির মত রোগ জীবাণু ছড়ায়, মন্দ জিনিষের উপর বসে, অসুখ ছড়ানোর কাজ করে এবং সাথে মশা আর একটা অতিরিক্ত কাজ করে, সে কামড়-ও দেয়, হুল ফুটায়, ব্যাথা দেয়, কষ্ট দেয়। মশা টাইপের প্যারেন্ট হচ্ছেন যারা মানুষের রক্ত খায়, আপন সন্তানের রক্ত খায়। মশা টাইপের প্যারেন্ট হচ্ছেন যারা তাদের বাচ্চার সাথে বাজে ব্যবহার করেন। মশা টাইপের প্যারেন্ট মাছি প্যারেন্টের মতোই বাচ্চার বদনাম করেন, বাজে কথা বলেন, বাচ্চার মন্দ দিক গুলোকে ফোকাস করেন। বাচ্চার কানের সামনে সারাক্ষণ ভ্যান ভ্যান করেন। উপরন্তু বাচ্চাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখান, অপমান করেন, আত্মসম্মানে আঘাত করেন, অন্যের সাথে তুলনা করেন, তাকে মারধোর করেন, শাস্তি দেন।

এ শাস্তি দেয়ার প্রচলন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে পেয়েছি। আমরা মনে করি শাস্তি দিলে বা ভয় দেখালে সন্তান ‘শুধরে’ যাবে। কথা পুরোপুরি সত্যি না। যারা ক্রমাগত শাস্তি দিয়ে যাচ্ছেন, অপমান করে যাচ্ছেন বা ভয় দেখিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য দুঃসংবাদ। কিছুদিন পরই তারা এর ফলাফল দেখতে পাবেন। যখন আপনার সন্তান টিন-এইজে যাবে সন্তানের সাইকোলজি অনুযায়ী আপনি তার মধ্যে দু’ ধরনের আচরণ দেখতে পাবেন।

এক. সে ভীতু হয়ে যাবে, জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাবে। সে সারাক্ষণ মনে করবে কোন ভুল হলেই সে সবার থেকে বকা খাবে বা শাস্তি পাবে। সে জীবনের পথে সাহসের সাথে এগিয়ে যে পারবে না। আপনি যদি চান আপনার সন্তান এরকম হোক তবে চালিয়ে যান মশা প্যারেন্টিং।

দুই.  সে এরোগ্যান্ট হয়ে উঠবে, ঘাড়ত্যাড়া হয়ে যাবে। কোন কথাই আর সে শুনবে না। সে তখন আপনাদেরকেই বকা দিবে, মারধরও করতে পারে। ঠিক যেমনটি করে আপনি তার সাথে আচরণ করছেন সেটিই সে ফেরৎ দিবে সুদে আসলে। আপনাদের থেকে সাইকোলজিক্যালি দূরে চলে যাবে।

এ মানুষগুলো অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। একটা জেলখানায় জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ তাদের মা-বাবার ভুল প্যারেন্টিং এর কারণে জেলে গিয়েছেন। কী সাংঘাতিক!

যত প্যারেন্ট আছেন আমাদের এই উপমহাদেশে, বিশেষ করে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশে ৯৫% প্যারেন্ট হয় মশা, না হয় মাছি টাইপের প্যারেন্ট । আপনারা যদি আশপাশে ভালভাবে দেখেন, তবে আমার কথার সত্যতা বুঝতে পারবেন। ৯০-৯৫% প্যারেন্ট এই দুই  শ্রেণীতে পড়ে যান। আমরা নিশ্চয়ই কেউ এমন প্যারেন্ট না, বা এমন প্যারেন্ট হতে চান না যদিও আমরা এখনো জানিনা – যে মশা, মাছি না হয়ে আর কি ধরণের প্যারেন্ট হওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *