সন্তানকে সুন্দর করে ঘুম থেকে জাগানো

আপনার সন্তান ঘুমাচ্ছে আপনি তাকে জাগাতে চাচ্ছেন, সাধারণত মায়েরা, কীভাবে আপনারা ঘুম থেকে জাগান। অনেক মায়েরা আমি দেখেছি যে তারা খুব চিৎকার চেঁচামেচি করে বাচ্চাকে ঘুম থেকে তোলেন। এরকম-ও হয় যে হাত ধরে টেনে বিছানা থেকে নামিয়ে ফেলেন। এটা খুব ভয়াবহ। বাচ্চার ডেভেলপমেন্টের জন্য এটি খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে। ঘুমের অবস্থা থেকে থেকে ধীরে ধীরে পজিটিভলি তাকে জাগাতে হয়। আমার জীবনের হিফ্‌জখানার যে অভিজ্ঞতা সেটা শেয়ার করছি।

এ দিনগুলি আমার জীবনের ভয়ঙ্করতম ছিল। আমাদেরকে ভোররাত সাড়ে তিনটায় ঘুম থেকে তুলে দিত। অনেক সময় বাচ্চা মানুষ এত ভোরে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করত না। হিফ্জখানায় বেশীরভাগই ৬-৭-৮ বছর বয়সের বাচ্চা। এমনকি বেত দিয়ে পিটিয়েও ঘুম থেকে তাদেরকে তোলা হতো। কী অমানুষিক নির্যাতন। কি যে চরম দুর্দশার কাল ছিল সেটা! এটা একটা বাচ্চার ব্রেইনে সারাজীবনের জন্য ক্ষতির ছাপ আঁকে। বাচ্চাকে খুব ভালবাসার সাথে ঘুম থেকে তুলতে হবে। আপনি তিন-টি মিনিট তাকে সময় দিন। কিভাবে তাকে তুলবেন। আপনি সব কাজ বন্ধ করে ৩টা মিনিট তার উপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিবেন। আপনার এই সময়টা আপনার সারাজীবনের  বিনিয়োগ। আপনার সন্তান মনস্তাত্বিকভাবে আপনার কথা শুনতে বাধ্য।

আমরা ঘুম থেকে কিভাবে তুলব? তার পাশে যাব, গিয়ে শুয়ে পড়ব। তার Eye Level – এ চলে আসব। আস্তে আস্তে মাথায়-পিঠে হাত বুলিয়ে খুব ধীরে সুস্থে, হাসি মুখে তাকে ঘুম থেকে তুলব। বাচ্চা চোখ মেলে যেন বাবা বা মায়ের হাসিমুখটা দেখতে পায়। আপনার সন্তানকে খুব ইতিবাচকভাবে জাগাবেন। ইতিবাচকভাবে ঘুম পাড়াবেন। আপনার ও আপনার সন্তানের দিনের শুরু এবং শেষ খুব ইতিবাচক হতে হবে, তখন আপনি আপনার সন্তানের সাথে কানেক্ট হতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *